Natun Kagoj

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ১ পৌষ, ১৪২৪ | ২৬ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯

চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফর বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে

আপডেট: ১৫ অক্টো ২০১৬ | ১৫:৩৮

md-shahedমো. সাহেদ : বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশের জন্য চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। পররাষ্ট্রনীতি ও ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার বিষয় রয়েছে। নানা কারণে চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করেছে। বিশেষ করে এই সময়ে বিশ্বে অনেক পরিবর্তন ঘটছে। দক্ষিণ এশিয়ায় একটা অস্থির সময় চলছে।  পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, দ্বন্দ্ব  পরিস্থিতি নানাদিকে বাঁক নিচ্ছে। ইতোমধ্যে চারটি দেশ অংশগ্রহণ না করার ঘোষণায় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে গেছে। এমনই এক সময়ে চীনা প্রেসিডেন্টের এই ঢাকা সফর। নানাদিক বিবেচনায় চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে দুই দেশের মধ্যেকার সফর বিনিময় হয়েছে বহুবার। কিন্তু এবারের চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর আগের যেকোনো বারের চেয়ে অতিগুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীন বর্তমান বিশ্বে অর্থনীতিতে প্রচন্ড শক্তিশালী বা একটি বড় অর্থনৈতিক শক্তি। বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ সম্ভাবনা অনেক বেশি।
অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফর। রাজনৈতিক দিক থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তার এ সফর। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি যেন স্থিতিশীল থাকে তা দেখতে চায় চীন। কারণ চীনের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ আরও বেশি সম্প্রসারিত করা। অবশ্য এ সফরে তার প্রমান মিলেছে। ২০ বিলিয়ন ডলারের ২৭টি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য অত্যান্ত ভালো খবর।
সামরিক দিক থেকেও চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। কারণ আমাদের যে সমস্ত সামরিক যান রয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই চীনের কাছ থেকে আমদানি করা। চীন থেকেই বেশিরভাগ সামরিক যান আমদানি করা হয়। সেই অর্থে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে সম্পর্ক রয়েছে সেটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চীন অর্থনৈতিক দিক থেকেও যেমন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, একইভাবে রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
চীনা প্রেসিডেন্টের এই সফর বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে নি:সন্দেহে। কারণ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চীনের প্রেসিডেন্টের এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্টের সফর পৃথিবীর যেকোনো জায়গাতেই অনেক গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশও তার এই সফরকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ দিয়েছে বলে মনে করি এবং সে কারণে চীনা প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করা হয়েছে
এ কথা আজ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশ ও চীন অংশীদারিত্বের এখন নতুন উচ্চতায়। দুদেশের জনগণের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে একমত হন দুই নেতা। সেজন্য ঘনিষ্ঠ সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে ‘সহযোগিতার জন্য কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করার কথা জানিয়েছেন তারা। চীনা প্রেসিডেন্টের এ সফরে এটা একটা সবচেয়ে বড় দিক বলে ধরে নেয়া যায়। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য ২০ মার্কিন বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের ২৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে এবং এর ফলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বেনিফিট পাবে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনেকরি। দুদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ ‘এক চীন নীতি’তে জোরালো সমর্থন দিয়েছে। ফলে দুদেশ খুবই ঘনিষ্ঠভাবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে ধরে নেয়া যায়। বাংলাদেশের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। যেমন- ব্যবসা, বিনিয়োগ, সমুদ্র অর্থনীতি, বিসিআইএম-ইসি, সড়ক ও সেতু, রেলপথ, পাওয়ার, সমুদ্র, আইসিটি, শিল্প উৎ্পাদন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতার উন্নয়নসংক্রান্ত। এছাড়াও ছয়টি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কৌশলগত অংশীদারত্বের অধীনে দুই দেশের জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পারবে।
ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম এবং পায়রায় দুটি বড় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, যার একেকটির ক্ষমতাই হবে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে একটি টানেল তৈরির প্রকল্পেও অর্থ সহায়তা দিচ্ছে চীন। এছাড়া একটি শাহজালাল সার কারখানা, ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কনফুসিয়াস ইন্সটিটিউট’ নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে চীনা অর্থ সাহায্যে।
বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক মধ্য আয়ের দেশ এবং পর্যায়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উপনীত হওয়া। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বঞ্চনামুক্ত হবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবে। সোনার বাংলার স্বপ্নের মতো তেজোদীপ্ত হতে চায় চীন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে চীন। বাংলাদেশ ও চীন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনের স্বপ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের স্বপ্ন ‘সোনার বাংলার’ সঙ্গে নিবিড় মিল রেখে পুরো চীনকে তেজোদীপ্ত করা। তার এই বক্তব্য বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।


নতুন কাগজ | রুদ্র মাহমুদ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন