খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কূটনৈতিক লবিংয়ে ব্যর্থ বিএনপি

0
22

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক লবিংয়ে ব্যর্থ দলটি। দলটির কূটনৈতিক চ্যানেলও এখন আগের মতো কাজ করছে না। এই ব্যর্থতা দূর করতে দলটির অভ্যন্তরে তেমন চেষ্টা নেই।

প্রায় দুই মাস ধরে কারান্তরালে থাকা দলনেত্রীকে মুক্ত করতে না পারায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন খালেদা জিয়ার আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠরা। তার মুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সাথে দুই দফা বৈঠক করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তারা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদন্ড, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে বিদেশীদের জানান।

তবে জানা গেছে, খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে তার মুক্তির দাবিতে লবিং করা হলেও কেউই তাদের অনুরোধে সাড়া দিচ্ছে না। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের সাথে নিয়মিত আলোচনা হয়। এ সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলা-কারাদন্ড নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে আমরা তাদের উপর নির্ভরশীল নই। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ডে জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয় ইউনিয়ন উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটও বিএনপির চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে মাঠে নামছে না। তারা মুখে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করলেও অনেকেই হতাশায় নিমজ্জিত। আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে দলের যেসব শীর্ষ নেতা সম্পর্ক রাখেন তাদের শোচনীয় ব্যর্থতায় দলীয় চেয়ারপার্সনের কাছে অদূর ভবিষ্যতে কোন সহানুভূতি মিলবে কিনা তাও প্রশ্নবিদ্ধ। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একদল তরুণ ব্যারিস্টার, ডাক্তার ও সাংবাদিক, সংগঠনের নেতা-কর্মী দলীয় চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে সক্রিয় আছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোসহ বিদেশীদের কাছে লবিং করা হচ্ছে।

বিএনপিসহ বিরোধী দলের ওপর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নিপীড়ন নির্যাতন বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তারা। বিরোধীদল হিসেবে বিএনপিকে রাজনীতি করার কোন সুযোগ দিচ্ছে না বলে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে অভিযোগও তোলা হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতা থেকে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়েরসহ নানা রকম হয়রানি করারও অভিযোগ প্রমাণাদিসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ মানুষজন গুম ও হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া বিষয়ে অভিযোগ করেছেন তারা। বিএনপির চেয়ারপার্সনকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকারে পরিণত করে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অভিযোগ করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতা ও বিদেশে অবস্থানরতরা। কিন্তু এতেও প্রত্যাশিত ফল লাভ না করতে পারায় নতুন কৌশলের সন্ধানে আছে বিএনপি।

জানা গেছে, এক সময়ে বিদেশীদের প্রতি ভরসা করে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেলেও তেমন কোন রাষ্ট্রই তাদের পাশে নেই। আন্দোলনের নামে পেট্রোলবোমা, জ্বালাও-পোড়াও, নিরীহ মানুষ হত্যা, জনসম্পৃক্ততা না থাকা ইত্যাদির কারণে বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিতে পারছেন না বিদেশীরা। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। একটি সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ভারতের বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ টেলিফোন করেছেন বলে প্রচারণা চালানো হয়। পরে জানা যায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বিএনপি চেয়ারপার্সনকে কোন ফোন করেননি। এছাড়া মার্কিন কংগ্রেসম্যানরাও পাল্টা বিবৃতি দিয়ে জানান, তারা কোন বিবৃতি দেননি। এছাড়া চীনা প্রতিনিধি দলের সাথে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকে তার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস থাকায় তারা এ বিষয়টিকে ভালোভাবে নেন নি। এসব ঘটনার পরে বিপাকে পড়ে বিএনপি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্রিফিংয়ের প্রথমাংশ জুড়ে ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা, বিচার প্রক্রিয়া, সাজা, জামিন আটকে দেয়া এবং কারাগারে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রসঙ্গগুলো। দ্বিতীয়াংশে বাংলাদেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় এবং নিষ্পত্তিমূলক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন বিএনপি নেতারা। আর্ন্তজাতিক বিষয়ে দেখভাল করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, বিএনপি আন্তর্জাতিক লবিং ব্যর্থ বা সফল এমন নয়। তবে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার সাজার ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকদের অবহিত করেছি। তারা উদ্বেগ জানিয়েছে এবং খোঁজ খবর নিচ্ছে। বিএনপি জনগণের দল। জনগণকে নিয়েই রাজনীতি করে। বিএনপির বিদেশী শক্তি নয় জনগণই শক্তি। বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী। তাকে জনগণই মুক্তি করবে।