Natun Kagoj

ঢাকা, বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি চান

আপডেট: ১৭ আগ ২০১৭ | ১৬:৩৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক: কোষ্ঠকাঠিন্য মানুষের অতিপরিচিত তবে ব্রিবতকর একটি শারিরীক অবস্থা।

এ অবস্থায় একজন ব্যক্তি সহজে মলত্যাগ করতে পারেন না।  ডাক্তারদের মতে, কেউ যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করার পরও প্রতি সপ্তাহে তিনবারের কম পায়খানায় যায় তখনই এই অবস্থাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলের সঙ্গে রক্তপাত, পাই‌লস, আলসার, পেটে ব্যথা, এনালফিসার এবং ফিসটুলার মতো জটিল রোগ হতে পারে। আবার স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোষ্ঠ্যকাঠিন্য সম্পর্কে জানা জরুরি।

কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার নানা কারণ রয়েছে যেমন- শাকসবজি ও ফলমূল এবং আঁশজাতীয় খাবার কম খাওয়া। ঘন ঘন  ব্যথানাশক খাওয়া। কায়িক পরিশ্রমের অভাব। নিয়মিত মলের বেগ চেপে রাখার অভ্যাস। থাইরয়েডগ্রন্থির কারণে অনেক ক্ষেত্রে শরীরের বিপাকক্ষমতা কমে যেতে পারে। ফলে বুকজ্বালা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। অবসাদ কিংবা বিষণ্ণতা কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি অন্যতম কারণ। মানসিক সমস্যার কারণে অনেক সময় খাদ্য পরিপাকে সমস্যা হয়। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেকেই ঔষধ খান।  এতে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান হলেও দীর্ঘস্থায়ী কোন উপকার পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে ঘরোয়া কিছু উপায়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সম্ভব।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পানি পানের বিকল্প নেই। কেননা এর অন্যতম কারণ হলো ডিহাইড্রেশন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাটি ঘন ঘন দেখা দিলে পানি পানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।

১০/১২ টি কিশমিশ নিয়ে ভালো করে ধুয়ে বিচি থাকলে তা ছাড়িয়ে নিন। এরপর ১ গ্লাস দুধে কিশমিশ দিয়ে ১ চিমটি দারুচিনি গুঁড়া দিয়ে ভালো মতো ফুটিয়ে নিন। এভাবে টানা তিন দিন দুধ পান করুন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকাংশে দূর হয়ে যাবে।

ত্রিফলা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় অনেক প্রাচীন কাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। ১ চা চামচ ত্রিফলা পাউডার ১ গ্লাস গরম পানি অথবা গরম দুধে ভালো করে মিশিয়ে নিন। রাতে ঘুমানোর পূর্বে তা নিয়মিত পান করুন। এতে করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে ইসবগুল অনেক কার্যকরী একটি উপাদান। ১ গ্লাস গরম পানিতে ২ টেবিল চামচ ইসবগুল দিয়ে ৫-১০ মিনিট রেখে দিন। যখন ইসবগুল পানি শুষে নিয়ে জেলির মতো আঠালো হবে তখন তা পান করুন। প্রতিদিন ঘুমুতে যাওয়ার পূর্বে পান করুন এই ইসবগুল।

তিলবীজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেক বেশি সহায়তা করে। তিলবীজ ভেঙ্গে গুঁড়ো করে তা আটা বা ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে চাপাতি বা রুটি তৈরি করে খেতে পারেন। এতে করে দেহে ফাইবারের অভাব পূরণ হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।

লেবুর রসও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রোধ করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এজন্য হালকা কুসুম গরম পানিতে লেবু চিপে নিন। চাইলে এতে সামান্য লবণ ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। সকালে খালি পেটে এই লেবু পানি খেয়ে নিন। আবার সন্ধ্যার দিকে আরেক গ্লাস খান। এই পানীয়টি প্রতিদিন নিয়ম করে খান দেখবেন খুব দ্রুতই কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সেরে যাবে।

ফাইবার এবং পেকটিন সমৃদ্ধ ফল কলা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। দিনে দুটি কলা খাওয়ানোর অভ্যাস করুন। কলার পেকটিন উপাদানটি পরিপাক ক্রিয়াকে সহজ করে খাবার হজম করতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন একটি আপেল খাদ্য তালিকায় রাখুন। এটি উচ্চ পেকটিন সমৃদ্ধ খাবার, যা পেট নরম করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রোধ করার অন্যতম সহজ উপায় হল ক্যাস্টর অয়েল। সকালে খালি পেটে ২ চামচ ক্যাস্টর অয়েল খেয়ে নিন।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন মধু খেতে ভুলবেন না। এই সমস্যায় মধু খুব উপকারী। এজন্য প্রতিদিন ২/৩ বার এক চামচ করে মধু খান। আবার কুসুম গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে মিশ্রণটি খেয়ে নিন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই মিশ্রণটি খেয়ে উপকার পাওয়া যায়।

হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে পালং শাক এর উপকারিতা অনেক বেশি। বিশেষ করে যখন আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দেখা দিবে তখন পালংশাক খেতে ভুলবেন না। যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা খুব বেশি জটিল আকার ধারণ করে থাকে তাহলে, পালংশাক জুস বানিয়ে অর্ধেক পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন ২ বেলা নিয়ম করে খেয়ে নিন। তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার দ্রুতই সমাধান হবে।


নতুন কাগজ | উৎপল দাশগুপ্ত

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন