Natun Kagoj

ঢাকা, বুধবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

কোথায় কবরী, কোথায় সেন্টু

আপডেট: ২১ জানু ২০১৭ | ০৯:০৬

৭রফিকুল ইসলাম রফিক: চট্রগ্রামের অখ্যাত কিশোরী মীনা পাল ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কবরী হিসেবে পরিচিতি পান। শ্যামবর্ণের এই নায়িকা ধীরে ধীরে দর্শকদের কাছে হয়ে উঠেন মিষ্টি মেয়ে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আচমকা। তখন থেকেই বদলে যেতে থাকে তার রুপ। বহিরাগত এই জনপ্রতিনিধি নিজের পিএস নিয়োগ দেন আরেক বহিরাগত শ্যামপুরের সিরাজুল ইসলাম সেন্টুকে। সুদর্শন এই যুবকের বিদ্যার দৌড় বেশী না থাকলেও তার প্রতি কবরীর অনুরাগ ছিল বেশ আলোচিত। তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছেন এ জুটি। নেই কবরী নেই সেন্টুও।

নির্বাচনের সময় ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কবরীর পেছনে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করলেও জয়ী হওয়ার পর দ্রুত ভুলে যান তাদের। কাছে টেনে নেন মুখচেনা কিছু লোককে। যাদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অন্যদলের লোকজন রয়েছে। প্রথমদিকে যারা ছিলেন পরে তাদের অনেকেই তাকে ছেড়ে যান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ, যুবলীগ নেতা মীর সোহেল আলী, আওয়ামীলীগের শফিকুল ইসলাম। মীর সোহেল একাধিকবার কবরী বলয়ে আসা যাওয়া করেছে।

ক্ষমতা পেয়ে একের পর এক অপকর্ম করতে থাকে কবরী ও তার পিএস। ফতুল্লার চোরাই তেল, জুট সেক্টর, ভূমি এমনকি মাদক সেক্টরও নিয়ন্ত্রণ করে তারা। মাদক নিয়ে পাগলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় শুভ নামে এক কিশোর নিহত হয়। আলীগঞ্জে যমুনা ডিপোর একটি জমি নিয়ে পলাশ সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ হয় কবরী গ্রুপের। ওই ঘটনায় পিস্তল উঁচিয়ে ফতুল্লা থানায় প্রবেশ করে পিএস সেন্টু তৎকালীন ওসি জীবন কান্তি সরকারের নাম ধরে ডাকাডাকি করে। ওসি থানার বাইরে থাকায় তার চেয়ারে বসে সেন্টু। ওই সময়ে তার চারপাশে ঘিরে থাকে সন্ত্রাসীরা।

এলাকার আধিপত্য নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সোহেল ওরফে শ্যূটার সোহেলকে হত্যা করার অভিযোগে কবরী পন্থী খেলাফত, মীর্জা পাভেল, ডাকাত আব্দুলসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়। ওই সময়ে কবরীর প্রভাবে এই মামলায় পিএস সেন্টুর নাম দেয়া যায়নি।
সেই সময়ে কবরীর কাছের লোক ছিলেন থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. শহিদুল্লাহ, ফতুল্লার আউয়াল, স্বপন চেয়ারম্যান, শিশির, রনি, খেলাফত, এনায়েতনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বিল্লাল, কাশীপুরের দুলাল মেম্বার, পঞ্চবটির শফিক, লিপু, স্বপন সরদার, মীর্জা পাভেল, ভোলাইলের শামীম, কুতুবপুরের খালেক, মাসদাইর পাকাপুলের ডাকাত আব্দুলসহ আরো কিছু লোক। তাদের অনেকেই এখন কবরীকে ভুলে শামীম ওসমান বলয়ে এসেছে।

কবরীর দাপটে পিএস সেন্টু পুরো ৫ বছর চাঁদাবাজি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফতুল্লার দাপা এলাকায় চাঁদা না পেয়ে দক্ষিন কেরানীগঞ্জের এক আওয়ামীলীগ নেতার মালিকানাধীন ৪ টি ইট বালুর দোকানে তালা মারে কবরীর পিএস সেন্টু ও যুবলীগ নেতা মীর সোহেল। এ নিয়ে তখন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ভূমি সেক্টর থেকেও মাসে মাসে মোটা অংকের মাসোহারা পেত কবরী। বিএনপিপন্থী এক চেয়ারম্যানকে প্রতি মাসে মাসোহারা দিয়ে ব্যবসা করতে হত বলে জানা গেছে। ভোলাইল নরসিংপুর এলাকার চিহ্নিত ভূমি দস্যু কবরীকে মাসোহারা দিয়ে জবরদস্তি জমির ব্যবসা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংসদ সদস্য থাকাকালীন ঝগড়া করেও আলোচিত হন কবরী। ওই সময়ে একাধিক রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধির সাথে প্রকাশ্য ঝগড়া করেন তিনি। ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক শওকত আলীকে বক্তাবলী পুলিশ ফাঁড়িতে আটক ও মারধরের ঘটনা কবরীর নির্দেশে হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। পরে চেয়ারম্যান হয়ে শওকত কৌশলগত কারনে কবরীর সাথে আপোষ করে। শওকতের বাড়িতে ২৮ পদ দিয়ে কবরীকে আপ্যায়নও করা হয়।

আলোচিত এই জনপ্রতিনিধি কবরী ও তার পিএস সেন্টুকে ভুলে গেছে অনেকেই। তবে তাদের অপকর্মের শিকার ভুক্তভোগীরা ভুলেনি এখনো এই দুইজনের নাম। শুভ’র মা ও শ্যুটার সোহেলের মা এখনো আর্তনাদ করে অভিশাপ দেয় তাদের। সেই সাথে প্রত্যশা করে এই আমলে সুষ্ঠ বিচারের।
জানা গেছে, সংসদ সদস্য না থাকলেও সেন্টুকে কাছেই রেখেছে কবরী। ঢাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কবরীকে দেখা গেলেও দেখা যায় না সেন্টুকে। অন্য একটি সূত্র বলছে, সেন্টু এখন প্রবাসী। কবরীর আমলে অঢেল অর্থ কামাই করে দেশ ছেড়েছে সে।


নতুন কাগজ | সাজেদা হক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন