Natun Kagoj

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

কাঁকড়া রপ্তানীতে নীতিমালা লংঘন

আপডেট: ২৫ সেপ্টে ২০১৬ | ১৫:৩৬

%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%95%e0%a7%9c%e0%a6%be

কাগজ প্রতিবেদক: নীতিমালা লংঘন করে অবৈধভাবে কম ওজনের কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি করছে দেশের কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের অসাধু একটি গ্রুপ।প্রজনন থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ধরে বিক্রি করার ফলে কাঁকড়াগুলো যেমন বড় হতে পারছে না, তেমনি বিশ্ববাজারে ভাল দামও পাওয়া যাচ্ছে না।এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অল্পসময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা দেশের উদীয়মান কাঁকড়া শিল্প।

কাঁকড়া ব্যবসার সাখে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের কাঁকড়া ব্যবসাকে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এখনই।না হলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উদীয়মান ও শক্তিশালী এই খাতটি নষ্ট হয়ে যাবে।
উত্তরার দিয়াবাড়ি খালপাড় এলাকায় স্থানীয় কাঁকড়া বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীতিমালা অনুযায়ী পুরুষ কাঁকড়া সর্বনিম্ন ২০০ গ্রাম এবং স্ত্রী কাঁকড়া সর্বনিম্ন ১৩০ গ্রাম রপ্তানি করার কথা থাকলেও প্রতিটি কাঁকড়ার ওজন মাপার কোন বিষয়ই চোখে পড়েনি।এক্ষেত্রে কাঁকড়া শ্রমিকরা তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে হাতের অনুমানে কাঁকড়াগুলোর ওজন নির্ধারন করে থাকেন।

%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%95%e0%a7%9c%e0%a6%be-2

রপ্তানী করার প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে প্যাকেটজাত করার আগে প্রথমে কাঁকড়াগুলো শ্রমিকরা হাতের অনুমানে (পুরুষ-২০০গ্রাম ও নারী-১৩০গ্রাম) বেছে বেছে আলাদা করে রাখে। তারপর আলাদা রাখা কাঁকড়াগুলো একসাথে মেপে ১৬ কেজি হলে একটা বক্সে প্যাকেট করা হয়।অর্থাৎ প্রতিটি বক্স ১৬ কেজি ওজনের হয়।

সুর্নির্দিষ্টভাবে ওজন নিয়ন্ত্রনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষ কাঁকড়ার জন্য নির্ধারিত ২০০ গ্রাম ওজন দূরের কথা্, ১৫০-১৬০ গ্রামের বেশি হবে না বলেই মাপার সময় উপস্থিত থাকা এই প্রতিবেদকের মনে হয়েছে।একইভাবে স্ত্রী কাঁকড়ার জন্য ১৩০ গ্রাম নির্ধারিত থাকলেও দেয়া হচ্ছে সর্ব্বোচ্চ ৯০ থেকে ১২০ গ্রাম।

নীতিমালা অনুযায়ি কাঁকড়া রপ্তানী করা যাচ্ছে না স্বীকার করে এস,কে ইলেকট্রনিক্স এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী ও কাঁকড়া ব্যবসায়ী সৈয়দ শাহজাহান বলেন, আমাদের নিজস্ব ঘের ও অন্যান্য যেসব জায়গা থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করি, তা সবসময় নীতিমালা অনুযায়ি ওজনের পাওয়া যায় না।এছাড়া কাঁকড়ার দাম অনবরত ওঠা-নামা করায় ছোট-বড় মিলিয়ে কাঁকড়া প্যাকেট করতে পারলে দাম বেশি পাওয়া যায়।

এদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, দ্রুত ও অধিক লাভের আশায় অসাধূ কাঁকড়া ব্যবসায়িদের একটি গ্রুপ নির্ধারিত সময়ের আগেই কাঁকড়া ধরে রপ্তানী করছে।সূত্রটি জানায়, বর্তমানে বাজারে ২০০ গ্রাম পুরুষ কাঁকড়ার দাম প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৪০০ টাকা আর ১৩০ গ্রাম স্ত্রী কাঁকড়ার দাম প্রায় একই রকম চলছে।এ হিসেবে প্রতিটন কাঁকড়ার বর্তমান বাজার মূল্য চলছে ১ লাখ টাকা।অথচ এই কাঁকড়াগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করে নীতিমালা অনুযায়ি রপ্তানী করা হলে প্রতি কেজির দাম বাড়ার পাশাপাশি মোট ওজনেও বাড়ত।এর ফলে বিশ্ববাজারে দামও পাওয়া যেত অনেক বেশি।

এ ব্যবসায় লাভ কেমন হয় সে বিষয়ে এস,এম,বি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, সব ব্যবসায়ই লাভ-লস আছে, কিন্তু কাঁকড়া ব্যবসাতে লস নাই বললেই চলে। তবে দাম প্রায় প্রতি দিনই ওঠানামা করার ফলে লাভ মাঝে মাঝে কম হলেও লস হয় না।


নতুন কাগজ | জহির আল মামুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন