একুশে নিয়ে রসিকতাঃ স্পর্ধা পায় কোথায়?

0
4

আবু সাঈদ আহমেদ: ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি গৌরবময় অধ্যায়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে আবুল বরকত, আবদুস সালাম, আবদুল জব্বারসহ কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। ১৯৫৩ সাল হতে দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

১৯৯৮ সালে কানাডায় বসবাসরত দুই বাঙ্গালী রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালাম প্রাথমিক উদ্যোক্তা হিসেবে জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের নিকট একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস  হিসেবে ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে  এখন থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে জাতিসংঘ – এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে।  অর্থাৎ ২০১০ সাল হতে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

ভাষা আন্দোলনের শিক্ষা হলো নিজ নিজ ভাষা এবং সংস্কৃতির মর্যাদা আদায় ও প্রতিষ্ঠিত করা। অন্য কোনো ভাষা বা সংস্কৃতিকে ঘৃণা করা নয়। কিন্তু অন্য কোনো ভাষা বা সংস্কৃতির আগ্রাসনকে প্রতিহত করা।   কিন্তু ২০১০ সাল হতে ভাষা শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ঘোষণার পরে থেকে বাংলাদেশে ভাষা শহীদ দিবস যেনো মশকরার বিষয় হয়ে উঠেছে। দিনে দিনে মশকরার মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌছে গেছে যে জাতীয় দৈনিকে একুশের ফ্যাশন আর একুশের খাবারের  রেসিপি হিসেবে  প্রকাশিত হচ্ছে বিজাতীয় ও হাস্যকর সব পোশাক আর খাবারের উদ্ভট রন্ধন ও পরিবেশন প্রণালী।

শহীদ মিনার এখন একুশের গানের পরিবর্তে দলীয় শ্লোগানে মুখর থাকে। আজ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যেসকল ব্যানার টানানো হয়েছে তা দেখে আৎকে উঠবেন যে কোনো সচেতন মানুষ। কারন কালো ব্যানারে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বাক্যের একপাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ও অন্যপাশে ব্যানার দাতার ছবি- পুরো ব্যানার দেখে মনে হবে এই তিনজনই ভাষা শহীদ। আর ব্যানারটি তাদেরই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে টাঙানো হয়েছে।

জাতির ইতিহাসে ভাষা দিবস যুগপৎ বিজয় এবং শোকাতুর একটি দিন। যারা এই দিবসটির মর্যাদাহানিতে মেতে উঠেছেন তাদের উদ্ধেশ্য মোটেও শুভ নয়। সাথে সাথে প্রশ্ন জাগে এমন গুরুত্ববহ ঘটনাকে নিয়ে রসিকতা করার স্পর্ধা তারা কোথায় পায়।

এই দিবসের মর্যাদা রক্ষায় সচেতন হবার কোনো বিকল্প নেই, সোচ্চার হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। তা না হলে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ ব্যতীত দিবসের মর্যাদা রক্ষার কোনো গত্যন্তর থাকবে না।

মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে আপনার মন্তব্য লিখুন
অনুগ্রহ করে এখানে আপনার নাম লিখুন