Natun Kagoj

ঢাকা, সোমবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

এই সিস্টেমের জন্য দায়ী কে?

আপডেট: ২০ জুলা ২০১৭ | ১৪:০২

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পারভেজ : প্রায় ১৬ কোটি মানুষের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এই দেশে প্রতি বছর হাজারো লক্ষ শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক চাকুরীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যো খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থী সেই প্রতিযোগিতায় পাশ করে কাঙ্ক্ষিত চাকুরী পেয়েছে। কম সংখ্যক বলার কারনটি স্পষ্ট কারণ প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারী এবং বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী তাদের কাঙ্ক্ষিত গ্রাজুয়েশন সমাপ্ত করে বের হয় কিন্তু সেই সমীক্ষা হিসাবে মাত্র কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার পোস্ট খালি থাকে চাকুরীর জন্য।

অবশেষে তারা শিক্ষিত বেকার হিসেবে নাম লিখায় বেকার এ্যাসোসিয়েশনে। এই বেকারত্তের কারণটি কি তা আমাদের সরকার, নিতীনির্ধারক এবং বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ সবাইকে এক সাথে ভাবতে হবে। তবে আমরা যদি উন্নত দেশের দিকে তাকাই তাহলে এই সমস্যার কারণ স্পষ্ট ভাবে আমাদের হাতে ধরা দিবে।

আমাদের দেশে একটি শিশু জন্মগ্রহণ করার পর থেকে চাকুরীর বাজারে বিক্রি হওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন কলঙ্কিত অধ্যায় পার করে। কলঙ্কিত অধ্যায় বলার কারণ কি ভাবছেন, দেখুন আমাদের দেশে একটি বাচ্চার বয়স ৫ বছর হওয়ার সাথে সাথে বাচ্চাকে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় স্কুলে এবং তার সাথে সাথে বাবা-মা-শিক্ষক-শিক্ষিকা সবাই মন্ত্র পরানো শুরু করে, স্কুলে প্রথম না হলে জিবনে কিছুই হবে না। বেচারা বাচ্চা মানুষ, নিজে কি বুঝে ভবিষ্যতের। সেও উঠে পরে লাগে প্রথম হওয়ার খেলায়। তার কিছু দিন পর শুরু হয় সার্কাস। বাবা বলবে তার সন্তনাকে গান শিখাতে কারণ পাশের বাসার ছেলে অথবা মেয়েটি গানের ক্লাসে ভর্তি হয়েছে, মা বলবে নাচের, ভাই বলবে ক্রিকেট ক্লাবে বোন বলবে আর্টে।বেচাড়ার ঘারে পরে সবকিছুর চাপ। এইভাবে কিছু বছর যাওয়ার পরে যখন সে ৫ম শ্রেণিতে উঠে তখন তার সামনে আসে জিবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষা। এ প্লাস নামক এক প্রাইজ পাওয়ার সুযোগ, যা না পেলে তার জীবন ধ্বংস। সেও কি করবে যেই কথা সেই কাজ লেগে পড়াছাড়াউপায় নেই কিন্তু পাওয়ার পর কি হল। এবার সবাই বলল না এটাতে হবে না, ৮ম শ্রেণিতে আরেকটা আছে সেটাও লাগবে। বেচারা ৮ম শ্রেণিতে এ প্লাস নিয়ে যখন ৯ম শ্রেণিতে পদার্পন করলো সবাই বলাবলি করছে ৫ম ও ৮ম শ্রেণির গুলো জিবনে কোনো কাজেই লাগে না । সে তখন ভাবে এতো কস্ট করে তাহলে এগুলো অর্জন করে কি লাভ হল। এই প্রশ্ন আমারো কি লাভ হল আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম উত্তর জানা থাকলে বলবেন।
এই বার শুরু হল ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার খেলা। ক্লাসে শিক্ষক এসে জিজ্ঞাস করার সাথে সাথে সবার উত্তর একই, কারণ তাদেরকে আমাদের এই সমাজ মন্ত্র পরিয়ে দিয়েছে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ছাড়া জিবনের কোনো মুল্য নেই। ছোট বাচ্চাটির মনে তখন কিছু বুঝ এসেছে সেও নিজে কিছু ভাবতে পারে। তার মনের অজান্তেই ভাবনা আশে আমি যদি ডাক্তার হই বা ইঞ্জিনিয়ার হই তাহলে এত সব বই পরার কারণ কি? সে এই প্রশ্নের উত্তর কোথাও খুঁজে পায় না কারণ সিস্টেম নামক এক শিকল তার চিন্তায় বেঁধে আছে। সিস্টেম হয়ে গেছে কি করার এই প্রশ্নের এই উত্তর পেলো সে। কি আর করার এস এস সি এবং এইচ এস সি তে সে সবার কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট যখন পেলো তখন সে নিজের অজান্তে ভেবেই বসেছে হয়ে গেছি আমি ডাক্তার। কিন্তু কই সবাই বলা বলি করছে কিছু হয় নি এ তো মাত্র শুরু। সেই ছোট্ট বাচ্চাটি আজ একটু বুঝের হয়েছে সে নিজে নিজে চিন্তা করলো তাহলে এতো বছরের এতো পরিশ্রম সব জলে গেলো। তার এইটুকু চিন্তার সময় নেই কারণ ১ ঘন্টার একটি পরীক্ষা তার জীবন গড়ে দিতে পারে কিন্তু শর্ত তাকে নাকি কোচিং নামক এক চিরিয়াখানায় যেতে হবে, না হলে হবে না কারণ এটাও নাকি সিস্টেম। ক্লাশের মুষ্টি কয়েক শিক্ষার্থী সাথে সংগ্রাম করা ছেলেটি হাজারো শিক্ষার্থীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে কিন্তু সে পেরে উঠছে না। অবশেষে সে হার মেনেই নিলো। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন শেষ, কিন্তু সে মেধার কাছেহেরে যায়নি সে টাকা ও সিস্টেমের কাছে হেরে কোনো এক নামি অথবা বেনামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হল। এতো কিছু জিবনে ঘটে গেলো কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তাকে আবার শিশু শ্রেণিতে ফিরে যেতে হবে কারণ ১ম না হলে নাকি বিশ্ববিদ্যালয় জিবনের কোনো লাভ নেই। সে কিছুতেই তার মনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মিলাতে পারছে না বাস্তবতাকে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা হবে কিছু উদ্ভাবন করবে কিন্তু এখানে তো সেই শিশু শ্রেণির মত মুখস্ত করতে হয়। সে আর পেরে উঠলো না কারণ এই মুখস্ত করে কি লাভ সে ভেবে কোনো উত্তর পেলো না কারণ এটাই নাকি সিস্টেম। দিন যায় মাস যায় এভাবে ৫ টি বছর শেষ করে তার সাথে আরো বোনাস দুই বছর শেষ করে বাবা মার জন্য একটা চাকুরী খুঁজতে যাবে। সেখানে গিয়েই সে জিবনের সবচেয়ে বর ধাক্কা খেলো এবার নাকি তাকে মামু ধরতে হবে তা না থাকলে কোনো চাকুরী নেই তার জন্য এ সমাজে। এতো দিন যেই পড়ালেখা শিখেছে তার কনো দাম নেই যদি মামু না থাকে। মামু না থাকার কারনে তার চাকুরী হল না তাকে এবার গুলি খাওয়ার কাজে নামতে হবে মানে বিসিএস দিতে হবে। বিসিএস এর প্রস্তুতি আর বসে বসে গুলি চাবিয়ে খাওয়া অনেকাংশে একই। গুলি চাবিয়ে খাচ্ছে আর সে তার বয়স বাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলালিংক দামে।
আমাদের এই সমাজ ব্যবস্থা ও দেশ তাকে কি দিল শুধুই হতাশা আর ধোঁকা। এই রকম ধোঁকায় পরে ধ্বংস হচ্ছে লাখ লাখ শিক্ষার্থির জীবন। কেউ বেছে নিচ্ছে মাদকের মত জীবনঘাতি কাজকে কেউ আবার সহ্য না করতে পেরে কেরে নিচ্ছে নিজের জীবন। কে দায় নিবে এই নস্ট জীবনগুলোর। এ প্রশ্ন আজ সবার মুখে মুখে কিন্তু জবাব একটাই তা হলো সিস্টেম। এই সিস্টেম কে পাল্টাবে প্রশ্ন একটা।


নতুন কাগজ | অনিল সেন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন