উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছান দুর্ঘটনার ২০মিনিট পর!

23

সমাচার ডেস্ক: ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে  বিধ্বস্ত হওয়ার প্রায় ২০মিনিট পর উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎপরতা শুরু করেন।

সোমবার দুপুরের ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ থেকে বেড়াতে যাওয় শাহরীন আহমেদ বিবিসিকে একথা জানান।

দুর্ঘটনার সেই ভয়াবহ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে আমরা উড্ডয়ন করি। আড়াইটার দিকে কাঠমান্ডু পৌঁছে পাইলট প্রথমে ল্যান্ড করার চেষ্টা করে। কিন্তু পারেনি।

শাহরীন বলেন, পরে ঘুরে ঘুরে আবার যখন দ্বিতীয়বার ল্যান্ড করার চেষ্টা করে, বাম দিকটা উঁচু হয়ে যায়। তখনি আমি বললাম, বাম দিকটা উঁচু হল কেন, আর তখনি ক্রাশ হয়ে গেল।

তিনি বলেন, একটি দুর্ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, এরকম সতর্কবার্তা পাইলট, কেবিন ক্রু বা অন্য কেউ দেয়নি। তারা নিজেরাও কিছু বুঝতে পারেননি। দুর্ঘটনার সময় সবাই ভয়ে চিৎকার করছিল আর আল্লাহর কাছে দোয়া পড়ছিল।

শাহরীন বলেন, একেবারে স্বাভাবিকভাবেই বিমানটি নামছিল। একদম হঠাৎ করে সবকিছু হয়ে গেল।

একজন বন্ধুর সঙ্গে সোমবার নেপালে বেড়াতে যাচ্ছিলেন ঢাকার একটি স্কুলের শিক্ষক ২৯ বছরের শাহরীন আহমেদ। শুক্রবারই আবার তাদের ঢাকায় ফেরার কথা। কিন্তু সেই বন্ধু দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

শাহরীন বলেন, আগুন লাগার পর আনুমানিক প্রায় বিশ মিনিট পর উদ্ধারকর্মীরা আসেন। সে পর্যন্ত আমি আর আরেকজন বিমানের ভেতরেই বসে ছিলাম। প্রচণ্ড ভয় লাগছিল আর হেল্প হেল্প বলে চিৎকার করছিলাম। কারণ আমি জানতাম, আগুন লাগার পর অনেকে দমবন্ধ হয়েই মারা যায়।

তিনি বলেন, উদ্ধারকারীরা আগুন নেভানোর পর জাহাজের একটি অংশ খুলে যায় আর বাইরে থেকে পরিষ্কার বাতাস ভেতরে আসতে শুরু করে। বাইরে আসার সময় দেখতে পাই যে, আরেকজন কাছেই বিমানের ফ্লোরে পড়ে ছিল, তার হাত ঝুলছিল। তিনি বেঁচে আছেন কিনা তা জানি না।

শাহরীন জানান, ওই দুর্ঘটনার পর একেবারেই সচেতন ছিলাম। লোকজন ধরে বাইরে নিয়ে আসে। তখন আমি বলি, আমি হাঁটতে পারবো। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত হেঁটেও আসি। কিন্তু তখন পায়ে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। আসতে আসতে শুধু আগুন দেখতে পাই।

দুর্ঘটনায় শাহরীনের শরীরের অনেক জায়গায় আগুনে পুড়ে গেছে। বর্তমানে কাঠমান্ডুর মেডিকেল কলেজ টিচিং হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে যাত্রা করা ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার সময় পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে তা রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থলেই ৪০ জন নিহত হন। পৃথক দুই হাসপতালে ৯ জন মারা যান।

মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উড়োজাহাজটির পাইলট আবিদ সুলতান এবং আহত এক যাত্রী মারা যান। এই নিয়ে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫১ জনে।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি এবং একজন চীনের নাগরিক। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের সংখ্যা দিয়ে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।