Natun Kagoj

ঢাকা, শনিবার, ১৮ই নভেম্বর, ২০১৭ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে সফর, ১৪৩৯ হিজরী

উইলিয়ামসনের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের পরাজয়

আপডেট: ১৬ জানু ২০১৭ | ১১:৩০

kane-690x450

ক্রীড়া ডেস্কঃ নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টের পঞ্চম দিন আবারো দুর্ভাগ্যের কবলে পড়লো সফরকারী বাংলাদেশ দল। আগের দিনই রান নিতে গিয়ে বাঁ পায়ের উরুতে ব্যাথা পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন টাইগার ওপেনার ইমরুল কায়েস।

আর আজ তাঁর দেখানো পথেই হাঁটলেন টাইগারদের মূল ব্যাটিং ভরসা হয়ে ওঠা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ব্যক্তিগত ১৩ রানের মাথায় কিউই পেসার টিম সাউদির দ্রুত গতির একটি বল মুশফিকের হেলমেটের পিছনের দিকে আঘাত হানে। সাথে সাথেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।

টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে বল হেলমেটে লেগেছে, কিন্তু এরপরেও যথেষ্ট ব্যথা পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিছুক্ষণ পর স্ট্রেচারে করে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়।

এর আগে ৩ উইকেটে ৬৬ রান দিয়ে চতুর্থ দিন শেষ করা বাংলাদেশ এদিন স্কোর বোর্ডে কোনো রান তোলার আগেই হারিয়ে বসে সাকিব আল হাসানের উইকেটটি।

প্রথম ইনিংসের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান সাকিব দ্বিতীয় ইনিংসে দায়িত্বজ্ঞানহীন একটি শট খেলতে গিয়ে স্যান্টনারের বলে কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

এরপর ক্রিজে আসেন হার্ডহিটার সাব্বির রহমান। মমিনুল হকের সাথে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু দলীয় ৯৬ রানে আঘাত হানেন কিউই পেসার নেইল ওয়াগনার।

কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের হাতে মমিনুলকে ক্যাচ বানিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান তিনি। মমিনুলের পরই মাঠে নামেন প্রথম ইনিংসে ১৫৯ রান করা টাইগার দলপতি মুশফিক। এরপরেই সেই আঘাত।

তবে মুশফিক রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরলেও টাইগারদের আশার প্রতীক হয়ে ক্রিজে ছিলেন সাব্বির। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রাখা সাব্বিরকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কামরুল ইসলাম রাব্বি। দলীয় ১৪৮ রানের মাথায় ১ রান করে টিম সাউদির প্রথম শিকারে পরিণত হন তিনি।

তবে বিস্ময় তখনও অপেক্ষা করছিলো। রাব্বি ফিরে গেলে ব্যাটিংয়ে নামেন আগের দিন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে যাওয়া ওপেনার ইমরুল কায়েস। ক্রিজে এসেই হাত খুলে খেলা শুরু করেন তিনি। তবে তাঁর সঙ্গী সাব্বির এরপর আর বেশীক্ষণ টিকতে পারেননি।

উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাব্বির রহমানকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন কিউই পেস তারকা ট্রেন্ট বোল্ট। এরপর অবশ্য আর বেশিদূর আগায়নি সফরকারীদের ইনিংস।

ইমরুল শেষ পর্যন্ত ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত থাকলেও সর্বশেষ ব্যাটসম্যান শুভাশিস রায়ের ষ্ট্যাম্প উপড়ে দেন বোল্ট। ফলে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগারদের ইনিংস। কিউইদের জন্য লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ২১৭ রান। এখনও প্রায় ৫৭ ওভারের মতো হাতে আছে স্বাগতিকদের।

ব্যাট করতে নেমে জিত রাভাল ও টম ল্যাথামের ব্যাটে ভালোই এগোতে থাকে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু মেহেদি হাসান মিরাজ পর পর দুই ওভারে এসে দুই বাঁহাতি ওপেনারকে সাজঘরে ফেরান। সেখান থেকে দারুন ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় নিউজিল্যান্ড।

দুই অভিজ্ঞ কেন উইলিয়ামসন ও রস টেইলরের ব্যাটে ভর করে অর্ধশত রানের জুটি গড়ে চা পান বিরতিতে যায় নিউজিল্যান্ড। কিউইের জয়ের জন্য তখন ১২৬ রান দরকার ছিল। বাংলাদেশের নিতে হত আট উইকেট।

কিন্তু বিরতির পরও বাংলাদেশি বোলারদের শাসন করে ৪৩ বলে অর্ধশত রান তুলে নেন। দলের স্কোর তখন ১২৮ রান দুই উইকেটে। সেই সাথে চতুর্থ উইকেটে দ্রুত শত রানের জুটি পূর্ণ করেন।

এর কিছুক্ষণ পরেই ৬১ বলে অর্ধশত রান পূর্ণ করেন রস টেইলর। নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন ১৭৪ রান দুই উইকেটে। টেইলর ৬০ রান করে শুভাশিষের বলে ফিরে গেলেও উইলিয়ামসন ৪০তম ওভারে এসে নিজের ১৫তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার সাথে দলের জয়ও নিশ্চিত করেন। স্বাগতিকদের সাত উইকেটের জয়ের দিনে মিরাজ দুটি ও শুভাশিষ একটি উইকেট শিকার করেন।

এর আগে সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহীমের মহাকাব্যিক ৩৫৯ রানের জুটি এবং মুমিনুল হক, তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের অর্ধশতকে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিলো বাংলাদেশ।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ড টম ল্যাথামের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং মিচেল স্যান্টনার ও রস টেলরের হাফ সেঞ্চুরিতে ৫৩৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ফলে প্রথম ইনিংসে ৫৬ রানের লিড পেয়েছিলো বাংলাদেশ।


নতুন কাগজ | এডমিন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন