ঈদ: ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে!

13

রবিন মুস্তাফি

প্রতি ঈদে ঘরমুখো মানুষদের অধিকাংশই সড়কপথ ব্যবহার করেন। অত্যাধিক যাত্রীর কারণে চাহিদার তুলনায় মাঝারি এবং দুর পাল্লার বাসের সংখ্যা অপ্রতুল হয়ে পড়ে। আর, এ সুযোগে দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া, ফিটনেসবিহীন এবং প্রায় অকেজো বাসগুলো নামমাত্র সংস্কার শেষে নতুন রং করে পথে নামে। এই বাসগুলোর স্বল্প পাল্লার যাত্রী বহনের সক্ষমতা না থাকলেও মারাত্নক ঝুঁকি নিয়ে মাঝারি এবং দুরপাল্লার যাত্রী বহন করে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বলেছেন,রাস্তার জন্য নয়, ফিটনেসবিহীন গাড়ির জন্য মহাসড়কে যানজট হতে পারে। ইতোমধ্যে বিআরটিএ-এর উদ্যোগে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কারণ, ফিটনেস বিহীন গাড়ি আর অদক্ষ চালকদের কারণে ঈদকেন্দ্রিক ব্যস্ত সড়কে প্রতিবছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করে।

সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হুশিয়ারি সত্বেও ঈদে যাত্রীবহনের লক্ষ্যে প্রস্তুত হচ্ছে অকেজো এবং ফিটনেসবিহীন বাস। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরের গ্যারাজে চলছে এসব বাসের রং করার শেষ মূহুর্তের কাজ। কারণ, ঈদের প্রায় সপ্তাহখানেক আগে পথে নামবে এসব গাড়িগুলো। মাঝারি ও দুরপাল্লার দুরত্বে যাত্রীবহনের পাশাপাশি চুক্তিতেও ভাড়া খাঁটবে এ বাসগুলো।

ফিটনেসবিহীন বেশীরভাগ বাসেই চালকের আসনে বসবেন মহাসড়কে অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ চালক। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছেই। একই সাথে মহাসড়কে গাড়ি অচল হয়ে পড়লে সৃষ্টি হবে দীর্ঘ যানজট। হাজার হাজার যাত্রী পড়বেন বিপাকে।

রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান বলেন,পুরনো ‍ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাস্তায় বিকল হয়ে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি করে। এই গাড়িগুলোর ফিটনেস নেই, রুট পারমিট, চালকের লাইসেন্স নেই। গাড়িগুলোর যারা মালিক তাদের চিহ্নিহ্ন করে রুট পারমিট বাতিল করা উচিত এবং শাস্তি দেয়া উচিত।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রাণ পুরুষ ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীবহনে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বাণিজ্য শুরু হয়। আনন্দ উদযাপনে উন্মুখ ঘরমুখো অনেক মানুষকে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে লাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হয়। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কোনো বিকল্প নেই।

দুর্ঘটনা কবলিত বাসগুলো সংস্কার বা মেরামত শেষে আগের ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে কিভাবে যাত্রী বহন করে এমন প্রশ্নের জবাবে বিআরটিএ-এর একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানালেন, কোনো যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় পড়লে সম্পূর্ণ বিষয়টি বিআরটিএকে অবহিত করা মালিকপক্ষর দায়িত্ব।কিন্তু পুলিশ কেস না হলে মালিকপক্ষ দুর্ঘটনার বিষয়টি গোপন রেখে গাড়ি মেরামত করে নেয়। অবশ্য পুলিশ কেস হলে কেবল বাসের অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।

তিনি জোড় দিয়ে বলেন, লোকবলের অভাবে বিআরটিএর পক্ষে বিশাল সংখ্যাক বাসের তদারকি করা কষ্টসাধ্য। এক্ষেত্রে বাসমালিক, চালক এবং পরিবহন নেতাদের সক্রিয় হতে হবে। আনফিট যানবাহন চালানোর বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিস্কার রাখতে হবে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা হলে নতুন করে ফিটনেস টেস্ট করাতে হবে।

সায়েদাবাদের একজন গ্যারেজ মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো সামান্য মেরামত আর নতুন রং লাগিয়ে দিব্যি দুর পাল্লার যাত্রী বহনে নেমে পড়ে। এই বাসগুলোকে পথে নামার জন্য পৃষ্ঠপোষকতা করেন কিছুসংখ্যক পরিবহন নেতা। এছাড়া প্রশাসনের দুর্নীতিগ্রস্থ চক্রও জড়িত। ফলে, ঈদে বিভিন্ন রুটে চুক্তিতে বা নিজের ইচ্ছেমত যাত্রী বহন করে এই বাসগুলো। তাছাড়া, মহাসড়কে বাস চালানোয় অনভিজ্ঞ চালকদের কারণে প্রতিমুহুর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়।

আশার কথা এই যে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ঈদের আগেই যাত্রীবাহী ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতসহ বিভিন্ন মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকছেন। মহাসড়কে উল্টোপথে গাড়ি চালালে জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঈদ উদযাপনে ঘরমুখো মানুষ এবার স্বস্তিতে ঘরে ফিরতে পারবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শুধু ঘরে ফেরা নয়, ঈদের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরাও নিরাপদ হোক এ প্রত্যাশা সবার।

নক.সাআ.০৪.০৩