Natun Kagoj

ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

ইউনুসের সম্মেলন নাটক ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ইস্যুতে কয়েকটি প্রশ্ন?

আপডেট: ৩০ জুলা ২০১৭ | ১৬:১৩

মোঃ মাহমুদ হাসান: (১) পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোন বিদেশীদের নিয়ে সম্মেলন করা যায় কিনা?-মাত্র তিনদিন আগে আবেদন করলে ২০০ বা ৫০০ বিদেশী অতিথি (?)র নিরাপত্তার ব্যবস্থা কোন গ্রামে করা যায় কিনা ?

(২) যেসব অতিথি (?) দেশে প্রবেশ করিয়েছেন ইউনূস-তারা দেশে কি পরিচয়ে প্রবেশ করেছেন- সম্মেলনের ডেলিগেট, নাকি ট্যুরিষ্ট, নাকি ব্যবসায়ি, নাকি রোগী, নাকি অন্য কোন পরিচয়ে? নাকি একেকজন একেক পরিচয়ে ? –কোন জ্ঞানী ও সন্মানিত ব্যক্তি ভূয়া পরিচয়ে অন্য দেশে প্রবেশ করতে পারেন কিনা বা করেন কিনা? যে কোন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একই পরিচয়ে (সম্মেলনের ডেলিগেট) ভিসা পাওয়া ও প্রবেশ করার কথা।

(৩) সম্মেলনটি ঢাকায় না করে, জিরাবো নামে এক অখ্যাত জায়গায় কেন? যেখানে সাভার উপজেলার সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় দুটি ইপিজেড বাদে নানান স্থানে অপরিকল্পিত উদীয়মান শিল্প এলাকার সুযোগে এখানে ভূয়া পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে একের পর এক জঙ্গিরা আস্তানা গাড়ছে, ধরাও পড়ছে, সেখানে ইউনূসের জিরাবোকে বেছে নেয়ার কারন কি? আরো প্রশ্ন আসে, ২০১৭ সালে শুধু জিরাবোতেই একটি শ্রমিক বিক্ষোভ ঘটানো হয়, যেই বিক্ষোভের নেপথ্যে গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক নেতা হিসাবে কারো যোগসাজশ বা ইন্ধন পাওয়া যায়নি, বরং ইন্ধনের প্রমান পাওয়া গেছে ইন্নুচ-জাফরুল্লাহ-মযহার-খালেদা গংয়ের সাথে যোগাযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের।

(৪) যেখানে সাধারনভাবে ইউনিয়ন / থানা পর্যায়েও একটা সভা করতে কমপক্ষে ৭ দিন আগে অনুমতি চাওয়া ও প্রস্তুতি নেয়া শুরু হয়, হল/ভেন্যু ভাড়া করা হয়, সেখানে ইউনূচের অনুমতি না নেয়া ছাড়াও হল/ভেন্যু ভাড়া নেয়া, খাবার ও স্ন্যাক্সের ব্যবস্থা, অতিথিদের (?) যাতায়াতের ব্যবস্থা–এসব বিষয়ে কারো সাথে কোন আলোচনা বা বুকিং এর প্রমান আছে কিনা?

(৫) কেউ কেউ ২০০ কেউ কেউ ৫০০ বিদেশীর কথা প্রকাশ করে সরকারকে দোষারোপের চেষ্টা করছেন। আসলে সংখ্যাটি কতো? আর এসব অতিথি (?) কতজন কবে কবে, কোন কোন পথ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে? এসব অতিথি (?) ইউনূস ও গ্রামীন সেন্টার ছাড়া বাংলাদেশের আর কার কার বা কাদের কাদের সাথে প্রকাশ্য বা গোপনে বৈঠক করেছে?

(৬) এই ২০০ বা ৫০০ বিদেশী অতিথি থেকেছেন কোথায় ? বিমানবন্দর বা অন্য কোনভাবে দেশে প্রবেশকালে তাদের লাগেজগুলি কি নিরাপত্তা তল্লাশি হয়েছিলো কিনা? যদি না হয়ে থাকে, এসব অতিথিদের লাগেজ এর মালামাল তারা যেসব স্থানে উঠেছেন, সেসব স্থানেই আছে বা ছিলো নাকি এর কিছু অংশ ইউনূসের অন্যান্য সহযোগী গংদের কাছে গেছে? — এ প্রশ্নটি উদ্ভট নয়, কিন্তু বিদেশী অতিথিদের জন্য অসন্মানজনক যদিও, তবুও বিষয়টির অবতারণা আসছে, এ জন্যই যে, তাদের কাছে আদৌ কি সম্মেলনের ডেলিগেট সম্পর্কিত কোন চিঠি বা কাগজপত্র ছিলো কিনা বা আছে কিনা?

(৭) ইউনূসের সম্মেলন হলো কি হলো না, এ বিষয়ে জঙ্গি মদদদাতাদের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ প্রকাশের সংবাদ দেখা যাচ্ছে আর কিছু কিছু ইউনূস ভক্ত বোকারামের উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, কোন সুস্থ মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের পক্ষ হতে ইউনূসের সম্মেলন হলো না কেন এ বিষয়ে কোন উদ্বেগ নাই, বরং দেশের সকল মানুষের মনেই আতঙ্ক তৈরী হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের মামলার রায় প্রকাশের পর পরই দেশে হঠাৎ বিভিন্ন বিদেশী নাগরিক কর্তৃক মসজিদের সামনে হতে বিক্ষোভ শুরুর চেষ্টা করার ঘটনাগুলি মনে করে।

(৮) ইউনূস নাকি সম্মেলন এর অনুমতির জন্য চেষ্টা করিয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত একজন ছোট পদের কর্মকর্তাকে দিয়ে–বর্তমান কর্মকর্তাদের সহায়তা না নিয়ে একজন সাবেক ছোট কর্মকর্তার সহায়তায় ২০০ বা ৫০০ বিদেশী অতিথি (?)র উপস্থিতিতে সম্মেলনের আবেদন-তাও মাত্র তিনদিন আগে কেন?

(৯) ২০০ বা ৫০০ অতিথি-এরা তো কন্টেইনার ভর্তি মালামাল না য রাস্তার পাশে কন্টেইনারটা ফেলে রাখলো, এদের থাকা, খাওয়ার কোন প্রকাশ্য ও সন্মানজনক ব্যবস্থা ইউনূস বা গ্রামীন সেন্টার করেছে কিনা? বলা হচ্ছে এরা বিদেশের ভিআইপি, তাহলে কোন বিদেশী ভিআইপির তো পরিচয় লুকিয়ে বা ভূয়া পরিচয়ে কোন রেন্ট্রি মার্কা হোটেলে রাখার কথা না, তাদেরকে নিশ্চয়ই প্রকাশ্যে হোটেল বা গেষ্ট হাউজ হিসেবে পরিচিত ও অনুমোদিত, এমন কোন স্থানে রাখা হয়েছে, আর অনুমোদিত হোটেল বা গেষ্ট হাউজে কোন বিদেশী অতিথি বোর্ডার হিসেবে উঠলে তাকে বা তাদেরকে যেমন বিশেষ সন্মান দেখানো হয়, আলাদাভাবে কেয়ার নেয়া হয় তেমনি তাদের যে কোন নিরাপত্তা প্রশ্নে সহায়তা করার সুবিধার্থে তাদের সঠিক পরিচয় ও কি কাজে বাংলাদেশে এসেছেন, সে সম্পর্কিত তথ্যাদি ও পাসপোর্ট, ভিসা সম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয় । ইউনূসের এই ২০০ বা ৫০০ অতিথি য়েখানেই যেভাবে গ্রামীন সেন্টার রাখার ব্যবস্থা করে থাকুক না কেন, সেসব স্থানে কি আদৌ এসব তথ্যদি রাখা হয়েছিলো বা আছে?

(১০) সম্মেলন বা সভা করার অনুমতি চাইলে ভেন্যু বা হল রুমের স্থান, নাম, ঠিকানা সহ চাইতে হয়, যে আবেদনটি ইউনূস বা গ্রামীন সেন্টার করেছে, সে আবেদনে কি জিরাবো গ্রামের (উদীয়মান শিল্প এলাকা, যেখানে কোন বিদেশী ঢোকার মতো রাস্তা পর্যন্ত এখনো হয়নি) কোন হল বা ভেন্যুর সঠিক নাম, ঠিকানা উল্লেখ ছিলো বা আছে, যদি উল্লেখ করা হয়ে থাকে, তবে সেটির অস্তিত্ব আছে কিনা, সেটি কি এ বিতর্ক ও সরকারকে দোষারোপের (এমনকি, আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ হেয় হয়ে গেছে এনমও বলা বা লিখা হচ্ছে) চেষ্টাকালে যাচাই করা হয়েছে কি?

(১১) সম্মেলন নাটকটিও তাহলে ইউনূসের কিছু ভূয়া শিক্ষাগত সনদ ও গ্রামীন নাম সম্বলিত সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভূয়া কাগজপত্রের মতোই ভূয়া সম্মেলন জাতীয় কিছুর আড়ালে দেশে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা সৃষ্টি করে ২০০৭ এর মতো ইউনূস বাংলাদেশে মার্কিন হস্তক্ষেপ এর আহবান জানানোর ঘৃণ্য পরিকল্পনার অংশ? আশা করি, দ্রুততম সময়ে এ প্রশ্নগুলি বিবেচনায় রেখে ইউনূস এর এই সম্মেলন নাটক বা সম্মেলন ষড়যন্ত্রের সব রহস্য উদঘাটন ও প্রচার করে দেশবাসীকে উদ্বেগ ও আতঙ্কমুক্ত করতে রাষ্ট্রের কর্ণধারেরা উদ্যোগী হবেন। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ইউনূসের বারবার এই রহস্যজনক ষড়যন্ত্রের অবসান হোক, এই প্রত্যাশা।

লেখক সাবেক কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষণা কর্মী, ঢাকা।


নতুন কাগজ | সাজেদা হক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন