Natun Kagoj

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ | ৩ মাঘ, ১৪২৪ | ২৮ রবিউস-সানি, ১৪৩৯

পালকী: আমি কি থাকবো?

আপডেট: ১৭ ডিসে ২০১৬ | ২১:৩৪

index

ফারুক হোসেন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীর পুরুষ’ কবিতার কথা সবার মনে আছে নিশ্চয়। আসুন একটু মনে করি:

মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে ।
তুমি যাচ্ছ পালকিতে মা চড়ে
দরজা দুটো একটুকু ফাঁক করে,
আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার ’পরে
টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে ।
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে
রাঙা ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে ।

একটা সময় ছিলো গ্রাম বাংলা তথা বাংলার রাজা-বাদশা এমন কি পীর আউলিয়ারাও এই বাহনটি ছাড়া চলতেই পারতেন না। আর পালকী ছাড়া বিয়ে, সেতো কল্পনারও অতীত ছিলো।

ছয় বেয়ারার কাঁধে চেপে চলা পালকীতে চড়ে চলাফেরা এখন এক মুহ্যমান অতীত। যদিও অনেকেই বলতে পারেন পালকী একটি অমানবিক পরিবহন ব্যবস্থা। যারা একটা ভাবেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন,  রিক্সা কিংবা ঠেলাগাড়ী যদি অমানবিক না হয়ে থাকে তাহলে বাহন হিসেবে পালকি কেন অমানবিক?

এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। শুধু এইটুকু জানি যে, আজকের প্রজন্ম বলতেই পারবে না পালকী নামক যান বাহনটির কথা। যদিও কালে ভদ্রে অনেক ধনী বাড়ীর বিবাহ অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যকে স্মরণ করতে বিভিন্ন আঙ্গিকে পালকী তৈরী করে থাকেন।

পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মূল যে ভীত তা হলো সে দেশের কৃষ্টি এবং সংস্কৃতি। সংস্কৃতির বাইরে অপসংস্কৃতি ঢুকে গেলে সে জাতি হয়ে যায় মেধাশূন্য। আমরা বীরের জাতি। তাই চাই, আমাদের সংস্কৃতিকে ধারণ এবং লালন করে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে হাঁটবো।

হাঁটার পথে যতই প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটুক না কেন আমরা হারিয়ে যেতে দেব না আমাদের সংস্কৃতির এই ধারক-বাহক পালকীকে। পালকী ফিরে পাক তার অতীত এতিহ্য, বিশ্বের বুকে পরিচিতি পাক বাঙ্গালী সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান হিসেবে, এই কামনা চিরন্তন।       (চলবে……)


নতুন কাগজ | রুদ্র মাহমুদ

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন