আজ লাইলাতুল কদর,ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইবাদত করবেন সারা রাত

8

-: মো. সাহেদ :-

সন্ধ্যা থেকেই শুরু হবে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। যদিও এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, শেষ দশকের বেজোড় যেকোন রাতে লাইলাতুল কদর খোঁজ কর। লাইলাতুল কদর লাভে রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফে অংশগ্রহণ করে থাকেন ধর্ম মুসলমানরা। তারপরেও মুসলিম উম্মাহর কাছে ২৬ রমজান দিবাগত রাত এক বিশেষ মর্যাদায় রয়েছে।

শবে কদর আগে পরে যেদিনই হোক মুসলিম উম্মাহ ২৬ রমজানের রাতে সবচেয়ে বেশি ইবাদত বন্দেগি করে থাকে। আবার এ রাতে লাইলাতুল কদর পাওয়ার সম্ভাবনাও সবচেয়ে বেশী বলে মনে করেন। অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণের মত হচ্ছে পবিত্র শবে কদরের রাত ২৬ রমজান দিবাগত রাতে। আর সেজন্যই সারা দুনিয়ার মুসলমানগণ এ রাতকেই লাইলাতুল কদর ভেবে সারা রাত জেগে থাকেন। নামাজ, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, কুরআন তেলাওয়াতসহ যাবতীয় ইবাদত-বন্দেগিতে সারারাত কাটিয়ে দেন।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর জন্য এ রাতের কিছু করণীয় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-লাইলাতুল কদর সন্ধান করা পবিত্র লাইলাতুল কদরের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো রাতকে নির্ধারণ করা না হলেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতে ‘লাইলাতুল কদর’ খোঁজ কর।  আলেমগণ এ রাতকে লাইলাতুল কদর হওয়ার ব্যাপারে মত দিয়েছেন। তাই আজকের রাতে লাইলাতুল কদর লাভে বেশি বেশি ইবাদত করা আবশ্যক। কুরআনসুন্নাহর অনুসরণে ইবাদত করা মুসলিম উম্মাহর জীবন পরিচালনা গাইড ও সংবিধান পবিত্র কুরআনুল কারিম আজকের রাতেই নাজিল হয়েছে।

আর তা ছিল ২৬ রমজান দিবাগত রাত তথা ২৭তম রমজান। এ কারণে লাইলাতুল কদরের মর্যাদা এত বেশি। এ রাতে কুরআন নাজিলের সম্মানার্থে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন- ‘লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সুতরাং কুরআন নাজিলের রাতে কুরআনকে বাস্তবজীবনে বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্বনবির সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করাই হবে লাইলাতুল কদরের সেরা প্রাপ্তি।গোনাহ মাফ চাওয়া এ রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আল্লাহর নিকট গোনাহ মাফের দোয়া শিখিয়েছিলেন।

তাই উম্মতে মুহাম্মাদির উচিত প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়ার মাধ্যমে গোনাহ মাফের জন্য তাওবা করা। দোয়াটি হলো আল্লাহুম্মা ইন্নাকা `ফুওয়ুনতুহিব্বুল `ফওয়াফা`ফু আন্না। অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালো বাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)কল্যাণের আবেদনলাইলাতুল কদর যেহেতু হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম রাত। তাই বান্দার জন্য এ রাতের হক বা অধিকার হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের পাশাপাশি মানুষের দুনিয়ার জীবনে সুখ-শান্তির আবেদন-নিবেদন আল্লাহর দরবারে পেশ করা। যাতে এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য সর্বোত্তম ভাগ্য নির্ধারণ করেন। দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ দান করেন।

কাজা নামাজ আদায় করামানুষের জীবনে কারণে অকারণে অসংখ্য ওয়াক্ত নামাজ ছুটে যায়। তাদের জন্য নামাজ কাযার সূবর্ণ সময় পবিত্র লাইলাতুল কদর। কারণ আল্লাহ তাআলার ঘোষণা, লাইলাতুল কদর হাজার মাসে চেয়ে উত্তম।এ রাতে যদি কেউ এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা আদায় করে তবে আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী হাজার ওই ওয়াক্তের নামাজের কাজা আদায় হওয়ার কথা।

আর এমনটি আশা করে কাজা আদায় করা মুসলিম উম্মাহর জন্য জরুরি।সুতরাং এ রাতে ন্যূনতম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ একবার করে কাজা আদায় করা উচিত। আল্লাহ ইচ্ছা করলে এ ওসিলায় বিগত জীবনে ছুটে যাওয়া নামাজগুলোর কাজা আদায়কে কবুল করে ওই বান্দাকে মাফ করে দিতে পারেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র লাইলাতুল কদর আতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন, সুম্মা আমীন।

-লেখক : সম্পাদক ও সমাজসেবক।

MHKhan(007)-12/06 NK-21