আজ পঁচিশে বৈশাখ, কবিগুরুর ১৫৭তম জন্মজয়ন্তী

0
14

নতুন কাগজ ডেস্ক, ঢাকা : জন্মদিন মানে নতুনের আবাহন। এটাই ভাবতেন চির নতুনের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নিজের জন্মদিনে নিজেই লিখে গেছেন- উদয় দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে মোর চিত্ত-মাঝে, চির নূতনেরে দিল ডাক, পঁচিশে বৈশাখ।আজ পঁচিশে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ১৫৭তম জন্মজয়ন্তী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্ম তার।

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে নানা কারণে বাংলাদেশের এক হার্দিক যোগসূত্র স্থাপিত হয়েছিল। কবির গান-কবিতা, বাণী এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তির ক্ষেত্রে প্রভূত সাহস যোগায়। কবির লেখা গান ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজ কর্মের মাধ্যমে নতুন একটি কালের সূচনা করে গেছেন।

কৈশোর পেরোনোর আগেই বাংলা সাহিত্যের দিগন্ত বদলে দিতে শুরু করেন। তার পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হয়েছে বাঙালীর শিল্প-সাহিত্য। তিনি উপহার দেন ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসঙ্কলন। তাঁর সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ রোগভোগের পর বাংলা ১৩৪৮ সালের বাইশে শ্রাবণ কলকাতায় পৈত্রিক বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

দিবসটি উপযাপনের লক্ষ্যে ঢাকায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্থার পক্ষ থেকে আজ দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আজ সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালায় কবিগুরুর ওপর আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ ছাড়া বেসরকার টিভি চ্যানেল-আই দিনব্যাপী রবীন্দ্র মেলার আয়োজন করেছে। আজ সকাল ৯টা থেকে বিকেল পর্যন্ত নানা কর্মসূচি পালন করা হবে চ্যানেলটির প্রাঙ্গণে।  জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি উদযাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রতিবছরের মত নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নোবেল বিজয়ী এই বাঙালি কবিকে স্মরণ করবেন তার ভক্তরা। শুধু দুই বাংলার বাঙালীই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলা ভাষাভাষী কবির জন্মবার্ষিকীর দিবসটি পালন করবে হৃদয় উৎসারিত আবেগ ও শ্রদ্ধায়। বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেন, বাঙালির সুখ-দুঃখ, আবেগ-ভালোবাসা, আশা-আকাঙ্ক্ষাসহ এমন কোনো অনুভূতি নেই যা রবীন্দ্রনাথ স্পর্শ করেননি।

তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ রচিত – আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ আমাদের জাতীয় সংগীত। এই গান জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির স্মারক। যে-কোনো দুর্যোগ-সংকটে ও আনন্দ-বেদনায় রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যসম্ভার শক্তি ও সাহস জোগায়। তাঁর সাহিত্যপাঠে আমরা আনন্দিত হই-আন্দোলিত হই।

প্রদত্ত বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জীবনের প্রতিটি সমস্যার-সংকট, আনন্দ-বেদনা এবং আশা-নিরাশার সন্ধিক্ষণে রবীন্দ্রসৃষ্টি আমাদের চেতনাকে আন্দোলিত করে, এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়। আমাদের চিন্তা, বোধ ও অনুভূতিতে তিনি (বিশ্বকবি) আমাদের হৃদয়ের কাছের মানুষ।

এমকে/007-8