Natun Kagoj

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ্জ, ১৪৩৮ হিজরী

আওয়ামী লীগ চমক নিয়েই সম্মেলন করতে যাচ্ছে !

আপডেট: ১৭ সেপ্টে ২০১৬ | ২০:০০

images
এইচ এম জালাল আহমেদ ।। পরবর্তী মহান সংসদ নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। বিভিন্ন মহলে মিডিয়ায় এমনই ইঙ্গিত রয়েছে। অনেকেই বলছেন, আওয়ামী লীগ তাদের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে। সম্মেলনে দলের যে ঘোষণাপত্র পেশ হবে, তার আলোকেই প্রস্তুত হবে দলটির নির্বাচনী ইশতেহার। এ সব ইঙ্গিতে স্বাভাবিক কারণেই অনেকেরই মনে কৌতুহল আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আসলেই চমক থাকবে! কী চমক নিয়ে জাতীয় সম্মেলন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ!
আওয়ামী লীগের যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সে সম্মেলনের সবকিছুই হবে পরবর্তী নির্বাচনের মহড়া। এ ইঙ্গিত দিয়েছেন সরকারের এক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির একাধিক নেতা। তাই দেশের সাধারন নাগরিকরা প্রতীক্ষায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিশতম সম্মেলনে নতুন কী চমক ঘোষিত হচ্ছে, সে দিকে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রমজানের ঈদ এর আগেই একাদশ নির্বাচনের প্রস্তুতির ডাক দিয়েছেন। তখন থেকেই আমরা শুরু করেছি। সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে নির্বাচনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার করা হবে।’ দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরো তিনজন সদস্য এবং দু’জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বরাত দিয়ে ইতিমধ্যেই দেশের বহুল প্রচারিত একটি পত্রিকা তুলে ধরেছে অনুরূপ প্রস্তুতির কথা। এসব নেতাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সবকিছুতেই থাকবে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির ছাপ।
আওয়মী লীগের এসব নেতারা আরো বলছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ‘দিন বদলের সনদ’ স্লোগান দিয়ে ভিশন-২০২১ ঘোষণা করা হয়েছিল। এটা দলটির ১৯তম সম্মেলনের ঘোষণাপত্র থেকে নেয়া হয়েছিল। এবারের সম্মেলনে ভিশন-২০৪১ চূড়ান্ত করা হবে। চূড়ান্ত ঘোষণায় থাকবে আকর্ষণীয় স্লোগান। তবে এখনো সে ঘোষণা চূড়ান্ত হয়নি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিকল্পনা তৈরির জন্যই সম্মেলন বারবার পেছানো হয়েছে। মূলত দলটির সম্মেলনটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহড়া হবে বলে তারা মনে করেন।
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। যদিও এর আগে আরো দু’বার তারিখ চুড়ান্ত করা হয়েছিল এবং দু’বারই তারিখ যে কোনো কারনে নির্ধারিত তারিখ পেছাতে বাধ্য হয়েছিলো দলটি। সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন। তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপ কালে বলেছেন, ‘২০তম জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যে ঘোষণাপত্র পেশ করা হবে, তার আলোকেই আওয়ামী লীগ একাদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার প্রস্তুত করবে। গত নির্বাচনের ইশতেহারেও তা-ই হয়েছিল।’ দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক বলেছেন, ‘পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে হলেও এটা নিয়ে কোনো দল থেকেই উচ্চবাচ্য হবে না।
বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁরা জেনেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনেই বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। তবে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির যে আপত্তি রয়েছে, সে সম্পর্কে সরকার সচেতন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের মেয়াদ শেষ হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন সবার মতামত নিয়েই গঠন করা হবে বলেই তারা আভাস দিয়েছেন। আলোচিত নেতাদের মতে, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে অনেক ছাড় দিতে তাঁরা প্রস্তুত। তবে বর্তমান সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো ছাড় তাঁরা দেবেন না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম কয়েকদিন আগে এক আলোচনা সভায় বলেছেন, ‘যে যেভাবেই কথা বলুক না কেন, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না এবং নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে।’
আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলনে যদি পরবর্তী মহান সংসদের নির্বাচনের ঘোষণা আসে তাহলে নিশ্চয়ই দেশের সাধারন নাগরিকদের মধ্যে গণতন্ত্রের আশার আলো জ্বলে উঠবে। শঙ্কিত নাগরিকেরা আবার প্রাণ ফিরে পাবেন রাজনৈতিক অঙ্গনে। সরব হয়ে ওঠবে আবারো রাজপথ। অবসান ঘটবে একপেশী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের। বিভিন্ন দলের কর্মীরা নিজ নিজ দলের কর্মকাণ্ডে বেরিয়ে আসবেন রাজপথে। তারা রাজনৈতিক প্রতিযোগীতার ধামাঢোলে মাতিয়ে তুলবেন গণতান্ত্রিকভাবে দেশের জিমিয়ে পড়া শঙ্কিত নাগরিকদেরকে।
এক উৎসবমূখর পরিবেশ সৃষ্টি হবে রাজপথে এবং ঘরে বাইরে। এমন পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশে ফেরৎ আসলে আবারো বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ জাগ্রত হবে। ক্ষমতায় আসা যাওয়া রাজনৈতিক খেলা। তবে আওয়ামী লীগ যদি অনুরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করতে কোনো কারনে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্ষমতায় ঠিকই আবার যেতে পারে। কিন্তু বর্তমান বিএনপির মত আওয়ামী লীগও দলগত ভাবে প্রাণ শুন্যেতে পৌছতে পারে বলে সচেতন মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। এ কথা ভেবেই হয়তো দলটির জাতীয় সম্মেলন করবে এবং এ সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।
আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতারা পরোক্ষভাবে আলাপচারিতায় বলে আসছেন, পরবর্তী মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখনই হোক না কেন, সে নির্বাচন হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব দলের অংশগ্রহণ ও গ্রহনযোগ্য অবাধ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ। এরূপ নির্বাচনে জাতি যে রায় দিবে সে রায় আওয়ামী লীগ অবশ্যই মেনে নিতে প্রস্তুত রয়েছে। এ প্রস্তুতি নিয়েই তারা আগামী নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছেন এবং দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন করতে যাচ্ছেন। তাদের এ সম্মেলন জাতিকে নতুন চমকে ভূষিত করবে। এ সব নেতাদের ভাষায় নিশ্চয়ই রাজনৈতিক অঙ্গনে আবার সুবাতাস বইবে। প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে আসবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সরব হয়ে ওঠবে রাজপথ। জাতিকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাবে আওয়ামী লীগ।
অবশ্য দেশের নাগরিকরাও এমনটি আশা করেন। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারন মানুষের মধ্যে নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে নানা রাজনৈতিক হিসেব নিকাশ। তাই দেশের সাধারন নাগরিকরা প্রতিক্ষায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিশতম সম্মেলনে নতুন কী চমক ঘোষিত হচ্ছে! এমন প্রত্যাশা বুকে নিয়ে। এ সবের অবসান ঘটবে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে। জাতি যে প্রত্যাশা নিয়েই আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের দিকে অধির আগ্রহে তাকিয়ে রইছেন এবং থাকতে যে হবেই। তাদের সে প্রথ্যাশা সঠিক সময়ই সব দিনের আলোর মত পরিস্কার ওঠবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।


নতুন কাগজ | জহিরুল ইসলাম

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন