Natun Kagoj

ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১লা মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

আইসিডিডিআরবি কে বাঁচান

আপডেট: ০৩ জুলা ২০১৭ | ১১:৩৯

ফিরোজ আহমেদ: আইসিডিডিআর, বি বাংলাদেশ সরকারের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৮ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইসিডিডিআর, বি সৃষ্টি, যার পরিচালনার দায়িত্বে আছে একটি Board of Trustees (BOT)। এই BOT এর সদস্য সংখ্যা ১৭ যেখানে স্বাস্থ্য সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।

বিদেশীদের সংখ্যাধিক্য ও বাংলাদেশীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিস্থিতি জটিল করেছে। সচিব থেকে কর্মরত কয়েকজন বিজ্ঞানীর সবাই যার যার ধান্দায় আছে। গবেষণা যেটা হয় তার সবটাই বিদেশীদের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে, দেশের চাহিদা মেটাতে নয়। অথচ মহাখালীতে চার একর জমিসহ সকল স্থাপনা সরকারের টাকায় তৈরী এবং আইসিডিডিআর, বি পরিচালনায় ব্যয়ের সিংহভাগই প্রতিবছর সরকার কর্তৃক বরাদ্দ দেয়া হয়।

বর্তমান BOT চেয়ারম্যান একজন Journal ব্যবসায়ী এবং সুযোগ বুঝে JHPN (Journal of Health Population and Nutrition) বিক্রি করেছেন। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা গেছে, রিচার্ড স্মিথ BMC এর সাথে শেয়ারে JHPN নিজের করে নিয়েছেন। স্টাফরা আন্দোলন করেছে, সরকারের প্রতিনিধিরা সব জানেন।

বিচার হয়নি বরং সরকারের স্বাস্থ্য সচিব মনজুরুল ইসলাম যাদের নিয়ন্ত্রণকর্তা ছিলেন, অবসরের পর তাদেরই অধীনে, চাকরিবিধি লংঘন করে, Deputy Executive Director হিসেবে যোগদান করেছেন। এটাতো মাত্র একটি ঘটনার সার সংক্ষেপ দিয়েছি। এর আগের BOT চেয়ারপার্সন Timothy Evans তার সময়ে ব্রাক এর কাছে ৪০৫০০ বর্গফুটের জায়গা বছরে ১ টাকা ভাড়ায় ৪৯ বছরের জন্য লিজ দিয়ে নিজেই ব্রাকের James P Grant School of Public Health (JPGSPH) এর ডীন হিসেবে যোগদান করেছিলেন।

তিনি চলে গেছেন আর আইসিডিডিআর, বি জায়গার অভাবে বছরের পর বছর তাঁবুতে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে এবং বাইরে ভাড়া করা অফিসে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ঠিক তেমনি জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (Institute of Public Health; IPH) এর দ্বিতীয় তলায় ব্যক্তিগত এনজিও “ideshi” পরিচালনা করছেন আইসিডিডিআর, বি এর ড: ফেরদৌসী কাদরি এবং আইসিডিডিআর, বি থেকে ট্যাক্স-ফ্রি গবেষণার রসদ নিচ্ছেন।

এছাড়া আরও আছে

১) অযথা বিদেশী কনসালটেন্ট নিয়োগ,

২) বিদেশীদের কর ফাঁকি,

৩) বাংলাদেশী ষ্টাফদের সুযোগ সুবিধা কমিয়ে অস্থায়ী পদে স্বল্পমেয়াদী চাকরী প্রথার ব্যাপক প্রয়োগ,

৪) অবৈধভাবে তাবেদার কয়েকজন বাংলাদেশীকে বিনা পরীক্ষায় সিনিয়ার ডিরেক্টর নিয়োগ,

৫) প্রশাসনিক সাধারণ পদগুলোতে, যেখানে দেশী অভিজ্ঞ জনবল বিদ্যমান, সেখানে চড়া বেতনে (প্রতি মাসে ১৫০০০-২৫০০০ মার্কিন ডলার) বিদেশীদের নিয়োগ, অথচ ঘন ঘন আর্থিক সংকটের কথা বলে ষ্টাফ ছাটাইকরণ,

৬) অর্ডিনেন্সে icddr,b’র জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকায় শত শত লিটার মানব নমুণা বিদেশে প্রেরণ, যেখানে পাশের দেশ ভারত থেকে ১ মিলিলিটার রক্তের নমুণাসহ মানব নমুণা বিদেশে প্রেরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অথচ উন্নত বিশ্বে এসব নমুনার ভীষণ সংকট আছে এবং সংগ্রহে বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন। নমুনাগুলো দেশে রেখে মৌলিক গবেষণার ব্যাপক উন্নয়ন ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব। আসলে আইসিডিডিআর, বি’র সকল গবেষণা কার্যক্রম বন্ধের পর্যায়ে।

প্রকৃতপক্ষে বিদেশীদের নমুণা সংগ্রহ করার কাজে আইসিডিডিআর, বি কে ব্যবহার করা হচ্ছে। সব জেনেও সরকারের সংশিষ্ট বিভাগগুলো নির্বিকার।

অাজ তাইআইসিডিডিআর, বি কে বাঁচাতে ও মানব গবেষাণার উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ের সামাজিক আন্দোলন লাগবে। আপনাদের মূল্যবান মতামত আইসিডিডিআর, বি কে বাঁচাতে ভীষনভাবে সহায়তা করবে।


নতুন কাগজ | সাজেদা হক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Loading Facebook Comments ...
 বিজ্ঞাপন